সার্স-কোভ-২-এর এক ভিন্ন প্রজাতির জিনগত গঠনের প্রাথমিক ফলাফল ভারতের সার্স-কোভ-২ জেনোমিক্স কনসর্টিয়ামের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে

সার্স-কোভ-২-এর এক ভিন্ন প্রজাতির জিনগত গঠনের প্রাথমিক ফলাফল ভারতের সার্স-কোভ-২ জেনোমিক্স কনসর্টিয়ামের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে

ব্রিটেনে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের যে নতুন প্রজাতির সংক্রমণের খবর মিলেছে, তার প্রেক্ষিতে ভারত সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন রয়েছে। নতুন প্রজাতির এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এবং ভাইরাস চিহ্নিতকরণের কৌশল গ্রহণে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নিয়েছে।  কেন্দ্রীয় সরকারের সুপরিকল্পিত কিন্তু সীমিত নয়, এমন কার্যকর পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে :- ১) ব্রিটেন থেকে ভারতে আগত সমস্ত বিমান পরিষেবা ২৩ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। ২) ব্রিটেন থেকে আগত সমস্ত বিমানযাত্রীর আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে নমুনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সে দেশ থেকে আগত কোনও যাত্রীর নমুনা পরীক্ষায় যদি এই ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মেলে, তাহলে প্রাপ্ত নমুনা ১০টি সরকার পরীক্ষাগারকে নিয়ে গঠিত কনসর্টিয়াম বা সংগঠনের কাছে আরও বিচার-বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হবে।  ৩) কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কর্মসমিতির গত ২৬ ডিসেম্বর বৈঠকে নমুনা পরীক্ষা, চিকিৎসা, নজরদারি এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ কৌশলের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ৪) সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের নতুন প্রজাতির সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য গত ২২ ডিসেম্বর আদর্শ কার্যপরিচালন বিধি জারি করা হয়েছে।  নতুন প্রজাতির এই ভাইরাস সম্পর্কে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কার্যকরী সমিতির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বর্তমানে জাতীয় স্তরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষিতে যে চিকিৎসা প্রোটোকল বা বিধি রয়েছে তা অপরিবর্তিত থাকবে অথবা নতুন প্রজাতির ভাইরাসের প্রেক্ষিতে বর্তমান নমুনা পরীক্ষায় কার্যকর করা হবে। কমিটি প্রস্তাব করেছে, বর্তমানে যে নজরদারি কৌশল রয়েছে তা কার্যকর থাকবে এবং নতুন প্রজাতির ভাইরাসের জিনগত গঠন সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যগুলির ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।  ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরে গত ২৫ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত ব্রিটেন থেকে প্রায় ৩৩ হাজার যাত্রী এসে পৌঁছেছেন। আগত সমস্ত যাত্রীর ওপরই নজর রাখা হচ্ছে এবং রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে আগত এই যাত্রীদের আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে নমুনা পরীক্ষার পর আগত ওই যাত্রীদের মধ্যে কেবল ১১৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। যাঁদের নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেই সমস্ত যাত্রীর নমুনা ১০টি সরকারি পরীক্ষাগারে জিনগত গঠন জানার জন্য ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে।  আগত যাত্রীদের মধ্যে যে ১১৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে তাঁদের মধ্যে কেবল ছয়টি নমুনাতে ব্রিটেনে ছড়িয়ে পড়া নতুন প্রজাতির ভাইরাসের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বেঙ্গালুরুর নিমহ্যান্স প্রতিষ্ঠানে পাঠানো নমুনা পরীক্ষায় তিনটি, হায়দরাবাদে সিসিএমবি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো নমুনায় দুটি এবং পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরলজিতে পাঠানো নমুনা পরীক্ষায় একটি ক্ষেত্রে নতুন প্রজাতির ওই ভাইরাসের প্রমাণ মিলেছে। যে সমস্ত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে তাঁদেরকে একটি কক্ষে সম্পূর্ণ একান্তে রাখা হয়েছে এবং সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এমনকি, ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মেলা ওই রোগীদের নিকট সংস্পর্শে আসা অন্যান্যদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ব্রিটেন থেকে আগত অন্যান্য সহযাত্রীদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আগত অন্যান্য যাত্রীদের পরিবারের সদস্যদেরও নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নমুনা পরীক্ষাগারগুলিতে নতুন প্রজাতির এই ভাইরাসের জিনগত গঠন সংক্রান্ত অন্যান্য খুঁটিনাটি বিষয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।  তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নিয়মিতভাবে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নজরদারি আরও বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে যাতে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।  উল্লেখ করা যেতে পারে, ব্রিটেনে ছড়িয়ে পড়া নতুন প্রজাতির এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, সুইডেন, ফ্রান্স, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা, জাপান, লেবানন এবং সিঙ্গাপুর থেকেও পাওয়া গেছে। 

News Desk

News Desk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *