বিশ্ব ক্যানসার দিবসে চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের সচেতনতা শিবির

বিশ্ব ক্যানসার দিবসে চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের সচেতনতা শিবির

৪ ফেব্রুয়ারি পৃথিবী জুড়ে পালন করা হয় বিশ্ব ক্যানসার দিবস। অন্যান্য অসুখের মত প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন নয়। কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া এই অসুখের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও বিশেষ কিছু জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে ক্যানসার একটি মাল্টি ফ্যাকটোরিয়াল ডিজিজ অর্থাৎ একাধিক কারণ এই অসুখ ডেকে আনতে পারে। বিশ্ব ক্যানসার দিবসের সামিল কলকাতার সর্ব বৃহৎ ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট (সিএনসিআই)। রাজারহাটের সিনিয়র সিটিজনদের আবাসন স্নেহদিয়ার প্রবীণ মানুষদের মধ্যে অসুখটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ক্যানসার সংক্রান্ত এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন, সিএনসিআই এর অধিকর্তা ডা. জয়ন্ত চক্রবর্তী ও মেডিক্যাল সুপার ডা. শঙ্কর সেনগুপ্ত। ২০০০ সালের UNESCO – র ডিরেক্টর জেনারেলের উদ্যোগে ৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে বিশ্ব ক্যানসার দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ – ২০২১ ক্যানসার দিবসের থিম হল আই অ্যাম অ্যান্ড আই উইল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে ভারতবর্ষে ২০১৮ সালে ১.১৬ মিলিয়ন মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং আক্রান্তদের মধ্যে ৭ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮০০ জন মানুষ মারা গেছেন। প্রবীণ মানুষদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক ভাবে বেশি। ৬৫ উত্তীর্ণদের মধ্যে শতকরা ৬ জন ক্যানসার আক্রান্ত হন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ২০৫০ সালে ক্যানসার আক্রান্তের হার বেড়ে দাঁড়াবে ১৫.৯% এ। বয়স্ক মানুষদের মধ্যে প্রস্টেট ক্যানসার, ব্রেস্ট ক্যানসার, লাং ক্যানসার ও বাওয়েল ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। ৬৫ বছরের বেশি বয়সে ক্যানসারের ঝুঁকি তরুণদের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেশি। তবে ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকলে দ্রুত রোগ নির্ণয় করা যায়। সঠিক চিকিৎসার সাহায্যে ক্যানসারের বিস্তার আটকে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায় অনায়াসে। এই উদ্দেশ্যেই সিএনসিআই সিনিয়র সিটিজেনদের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষজনকে ক্যানসার সম্পর্কে সচেতন হবার আহ্বান জানাচ্ছে। তামাকের নেশা সরাসরি ক্যানসারের কারণ। এছাড়া বেশি ওজন, সারাদিন বসে কাজ করা, জাঙ্ক ফুড, কৃত্রিম রাসায়ানিক ও রঙ মেশানো খাবার ক্যানসার উদ্দীপক। রোজকার ডায়েটে ফল ও সবজি থাকলে এবং নিয়মিত এক্সারসাইজ করে ওপজন ঠিক রাখলে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়। আমাদের দেশের শহরাঞ্চলে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ২০২০ তে প্রকাশিত ন্যাশনাল ক্যানসার রেজিস্ট্রি প্রোগ্রাম (এনসিআরপি) রিপোর্টে জানা গেছে দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু সহ দেশের ৯ টি প্রধান শহরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা একেবারে ১ নম্বরে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড রিসার্চ (এনসিডিআইআর) ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের ৫৮ টি ক্যানসার হাসপাতালের রোগীদের ওপর দীর্ঘ ৫ বছর সমীক্ষা করে দেখেছেন আমাদের দেশের প্রতি ৪ জন মানুষের ১ জন ক্যানসারে আক্রান্ত। শহর অঞ্চলের পুরুষরা সব থেকে বেশি ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রত্যেক মানুষ যদি তামাক বর্জন ও শপথ নেন তাহলে শ্বাসযন্ত্রের এই কর্কট রোগকে নির্মূল করা সহজ হবে।

News Desk

News Desk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *