তৃতীয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব ২০২১

তৃতীয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব ২০২১


বাংলাদেশের ৩২টি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নিয়ে তৃতীয়বারের মতো শুরু হলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব ২০২১। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতার সহযোগিতায় ৫-৯ ফ্রেবুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত কলকাতায় তৃতীয় ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব’ চলবে । রবীন্দ্র সদনের নন্দন -১,২ ও ৩ এর প্রেক্ষাগৃহে প্রতিদিন দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ছবি প্রদর্শিত হবে ।
আজ উদ্বোধন করলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান ও প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ, কলকাতাস্থ উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান, ডঃ মোঃ মোফাকখারুল ইকবাল, প্রথম সচিব (প্রেস)।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই।তবে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের দায়িত্ব নেবার পর যৌথ ভাবে ভারত-বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তৈরির কাজ হচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যা কিছুই ঘটুক না কেন সংস্কৃতির মধ্যে কোন বিভেদ করতে পারে না। আমাদের মধ্যে আরও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বাড়াতে হবে। এর ফলে দুই বাংলার সুসম্পর্ক আরোও নিবিড় হবে’।
মন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘সমাজে উন্নয়নের জন্য শিল্প ও সাহিত্যের সাথে রাজনীতি আনা ঠিক নয়।
ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, এই বছর বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর এবং ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেরও পঞ্চাশ বছর। তিনি বলেন ভারত-বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা একসাথে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্থাপন করেছে।ফলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনেক রক্ত ঝরেছে । ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক রক্তের আখেরে গড়া । তাই এই সম্পর্ক ছিন্ন হবার নয়। দুই দেশের সম্পর্ক নিবির এবং গভীর।বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক সুবর্ণ সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুজকাওয়াজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অংশ গ্রহণ করেছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দুই দেশ ‘জিরো টলারেন্স’ নিতি গ্রহণ করেছে।দুই দেশের গোয়েন্দা বিভাগ এই বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে। ফলে ভারত ও বাংলাদেশের সেনারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছে।আমি মনে করি, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে।যা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা ও ভ্রমণের জন্য অনেক মানুষ আসেন।তিনি বলেন, আমি যখন বাংলাদেশে ভারতের নিযুক্ত হাইকমিশনার ছিলাম তখন বছরে ৫ লাখ ভিসা প্রদান করা হয়েছিল।সবশেষে তিনি বলেন দুই দেশের যৌথ প্রযোজনায় যে চলচ্চিত্র হচ্ছে তা অভিনন্দন যোগ্য।
ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান বলেন, আমি মনে করি কলকাতা ভারতের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র যা দুই বাংলার কাছে গর্বের। কিছুক্ষন আগেই অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এ একটি চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়েছে।আজ যে তৃতীয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হচ্ছে এটা শুধু কলকাতা কেন্দ্রিক করে না রেখে এই উৎসব বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিতে হবে।

News Desk

News Desk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *