কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ৫৮ লক্ষেরও বেশি সুফলভোগীর টিকাকরণ – সর্বাধিক টিকাকরণের দিক থেকে ভারত তালিকায় তৃতীয় স্থানে

কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ৫৮ লক্ষেরও বেশি সুফলভোগীর টিকাকরণ – সর্বাধিক টিকাকরণের দিক থেকে ভারত তালিকায় তৃতীয় স্থানে

আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য হিসাবে ভারতে গত ১০ দিনে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দৈনিক-ভিত্তিতে ১৫০-এর নীচে নেমেছে। গত ২৪ ঘন্টায় কেবল ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে কার্যকর কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি ব্যাপক হারে নমুনা পরীক্ষা, আক্রান্তদের খুঁজে বের করা ও যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ কমছে এবং দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যায় নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

কোভিড নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলার অঙ্গ হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকার না কেবল কোভিড জনিত কারণে মৃত্যু হার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই সঙ্গে মানুষের জীবন রক্ষায় গুণগত মানের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে গুরুতর কোভিড অসুস্থ ব্যক্তিদেরও জীবন বাঁচানো যায়।

কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সমন্বয়মূলক প্রয়াসের দরুণ করোনায় মৃত্যু হার লক্ষ্যণীয় হারে কমছে।

১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে মৃত্যুর খবর নেই। এই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে রয়েছে – আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লাক্ষাদ্বীপ, লাদাখ, সিকিম, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা, আসাম প্রভৃতি।

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় সুস্পষ্টভাবে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও কমে হয়েছে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৬০৯। এর ফলে, মোট করোনায় আক্রান্তের কেবল ১.৩৭ শতাংশই সুস্পষ্টভাবে করোনায় আক্রান্ত।

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় ১১ হাজার ৮৩১টি আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৯০৪ জন। মোট করোনায় আক্রান্তের ৮১ শতাংশই ৫টি রাজ্যের বাসিন্দা। অন্যদিকে, কেরল ও মহারাষ্ট্রে সম্মিলিতভাবে মোট আক্রান্তের ৭০ শতাংশই রয়েছেন। দেশে ৩৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সুস্পষ্টভাবে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজারেরও কম। মহারাষ্ট্রে গত মাসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক কমেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর প্রদেশ।

দেশে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত কোভিড-১৯ টিকাকরণ কর্মসূচির আওতায় ৫৮ লক্ষ ১২ হাজার ৩৬২ জন সুফলভোগীকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

ক্রমিক সংখ্যা রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল টিকা নেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা
     
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ৩,৩৯৭
অরুণাচল প্রদেশ ১২,৩৪৬
অন্ধ্রপ্রদেশ ২,৯৯,৬৪৯
আসাম ৮৮,৫৮৫
বিহার ৩,৮০,২২৯
চন্ডীগড় ৫,৬৪৫
ছত্তিশগড় ১,৬৮,৮৮১
দাদরা ও নগর হাভেলী ১,৫০৪
দমন ও দিউ ৭০৮
১০ দিল্লি ১,০৯,৫৮৯
১১ গোয়া ৮,২৫৭
১২ গুজরাট ৪,৫১,০০২
১৩ হরিয়ানা ১,৩৯,১২৯
১৪ হিমাচল প্রদেশ ৫৪,৫৭৩
১৫ জম্মু ও কাশ্মীর ৪৯,৪১৯
১৬ ঝাড়খন্ড ১,০৬,৫৭৭
১৭ কর্ণাটক ৩,৮৮,৭৬৯
১৮ কেরল ২,৯২,৩৪২
১৯ লাদাখ ১,৯৮৭
২০ লক্ষাদ্বীপ ৮৩৯
২১ মধ্যপ্রদেশ ৩,৪২,০১৬
২২ মহারাষ্ট্র ৪,৭৩,৪৮০
২৩ মণিপুর ৮,৩৩৪
২৪ মেঘালয় ৬,৮৫৯
২৫ মিজোরাম ১০,৯৩৭
২৬ নাগাল্যান্ড ৪,৫৩৫
২৭ ওডিশা ২,৭৬,৩২৩
২৮ পন্ডিচেরী ৩,৫৩২
২৯ পাঞ্জাব ৭৬,৪৩০
৩০ রাজস্থান ৪,৬০,৯৯৪
৩১ সিকিম ৫,৩৭২
৩২ তামিলনাডু ১,৬৬,৪০৮
৩৩ তেলেঙ্গানা ২,০৯,১০৪
৩৪ ত্রিপুরা ৪০,৪০৫
৩৫ উত্তর প্রদেশ ৬,৭৩,৫৪২
৩৬ উত্তরাখন্ড ৭৪,৬০৭
৩৭ পশ্চিমবঙ্গ ৩,৫৪,০০০
৩৮ অন্যান্য ৬২,০৫৭
   মোট ৫৮,১২,৩৬২

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় ৩৬ হাজার ৮০৪ জন সুফলভোগীর টিকাকরণ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৪৮৭টি টিকাকরণ পর্ব পরিচালিত হয়েছে। দৈনিক টিকা গ্রহীতা সুফলভোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

দেশে করোনামুক্ত হয়েছেন ১ কোটি ৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫০৫ জন। এর ফলে, সুস্পষ্টভাবে আক্রান্তের সংখ্যা এবং সুস্থতার সংখ্যার মধ্যে ফারাক আরও বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ৮৯৬। সুস্থতার হার বেড়ে হয়েছে ৯৭.২০ শতাংশ।

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরোগ্য লাভকারীদের ৮০.৫৩ শতাংশই ৬টি রাজ্যের বাসিন্দা। কেরলে একদিনেই সর্বাধিক ৫ হাজার ৯৪৮ জন সুস্থ হয়েছেন। মহারাষ্ট্রে আরোগ্য লাভ করেছেন ১ হাজার ৬২২ জন। অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশে সুস্থ হয়েছেন ৬৭০ জন।

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্তদের ৮৫.৮৫ শতাংশই ৬টি রাজ্যের বাসিন্দা। কেরলে একদিনেই সর্বাধিক ৬ হাজার ৭৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মহারাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬৭৩ জন এবং কর্ণাটকে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮৭।

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাজনিত কারণে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯.৭৬ শতাংশই মারা গেছেন ৬টি রাজ্য থেকে। মহারাষ্ট্রে সর্বাধিক ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেরলে মারা গেছেন ১৯ জন।

News Desk

News Desk

প্রাসঙ্গিক বিষয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *