নন্দীগ্রাম দিবস

২০০৭ তখন রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার। ইন্দোনেশিয়ার সালিম গ্রুপ রাজ্যে এসেছিল কেমিক্যাল হাব তৈরি করবার জন্য। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম প্রায় ১০ হাজার একর জায়গা সরকার তাদেরকে দেওয়ার ব্যবস্থা করল। কিছুটা হলেও মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা ছিল নন্দীগ্রাম, সেখানে প্রতিরোধ তৈরি হল মাওবাদীদের সাহায্যে। তৈরি হল ভূমি রক্ষা কমিটি । ধীরে ধীরে প্রতিরোধ তৈরি হলো তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে। সরকারের আদেশে নিয়োগ হলো পুলিশ। সরকারি খতিয়ান অনুযায়ী ১৪ জন গ্রামবাসী মারা গেছিলেন পুলিশের গুলিতে, আহত হয়েছিলেন প্রায় ৭০ জন। শুরু হলো এক নতুন বিপ্লবের ‘নন্দীগ্রাম আন্দোলন’। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি একেবারে সামনের সারিতে। হাজারো হাজারো অভিযোগ দায়ের হয়েছিল সংশ্লিষ্ট থানায় কিন্তু কোন কিছুরই সঠিকভাবে তদন্ত করেনি বলে অভিযোগ করেন ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি।এখানকার কৃষকরা তাদের কৃষি জমি ফেরত পাওয়ার জন্য আন্দোলন শুরু করে, পাশে পায় উচ্ছেদ কমিটিকে। প্রায় তিন হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয় নন্দীগ্রামে। দিনটি ছিল ১৪ ই মার্চ ২০০৭। শুরু হয় দাঙ্গা,মারপিট। প্রায় ২০০ মানুষের বেশি মারা যান সেই দাঙ্গায়। আগুন জ্বলে ওঠে সারা রাজ্যে। ওইদিনের ঘটনার পর পুলিশ উদ্ধার করে বহু রাউন্ড গুলি তার সঙ্গে উদ্ধার হয় বিভিন্ন বেআইনি অস্ত্র। ধারণা করা হয় প্রত্যক্ষভাবে এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন মাওবাদীরা। সেই নন্দীগ্রামের গণআন্দোলন থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পালাবদল শুরু হয় ৩৪ বছরের বাম আমলের অবসান হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় আসার পর কেটে গেছে প্রায় ১০ বছর রাজনৈতিক পালাবদল এর মাঝে চলেছে দলবদল সেই নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম সংগ্রামী প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। আজ তিনি বিরোধী দল বিজেপির অন্যতম নেতা। কিন্তু সেই গণআন্দোলনে স্থান নন্দীগ্রাম কে নিয়ে আগামী ২০২১ বিধানসভাতেও চলছে রাজনীতির খেলা। জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে খোলা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন নন্দীগ্রাম থেকে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। বিজেপির পক্ষ থেকেও নন্দীগ্রামে আগামী নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একটা কেমিক্যাল হাব গড়ে ওঠা, সেখান থেকে শয়ে শয়ে মানুষের মৃত্যু এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক পালাবদল আজ সেই নন্দীগ্রাম কি চাইছে তা বোঝা যাবে আগামী ২রা মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে। কে সেখানে জিতবে কিবা সেখানে হাঁটবে অথবা আগামী নির্বাচনের পর কে পশ্চিমবঙ্গে নিজের সরকার গঠন করবে সব উত্তর পাওয়া যাবে ওই একটা দিনই। তবে আদৌ কি নন্দীগ্রামবাসি রাজনৈতিক পালাবদ সহ নন্দীগ্রামকে নিয়ে রাজনীতি এই সবকিছু কি সত্যিই চেয়েছিল?

News Desk

News Desk

প্রাসঙ্গিক বিষয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *