পর্দার নায়িকার সঙ্গে সম্মুখ সমরে ‘স্ত্রীয়ের অধিকার’এর দাবিতে লড়াই করা শোভন জায়া

পর্দার নায়িকার সঙ্গে সম্মুখ সমরে ‘স্ত্রীয়ের অধিকার’এর দাবিতে লড়াই করা শোভন জায়া

বেহালা পূর্বে জমজমাট ভোট অঙ্ক

রাজ্য বিধানসভার মহাযুদ্ধের স্নায়ুকেন্দ্র এবার অবশ্যই পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম।কিন্তু লড়াইয়ের ভরকেন্দ্র সরে গেলেও আলো হারাচ্ছে না রাজধানী কলকাতা। কেননা তৃণমূল এবং বিজেপি রাজ্য রাজনীতির এই প্রধান দুই শিবিরের অনেক রথী-মহারথীরাই এবার কলকাতার মাটিতেই নিজেদের শক্তি পরীক্ষা করবেন।এছাড়াও অন্যান্য নানা ফ্যাক্টরের কারণে এবার কলকাতার বেশ কিছু আসন প্রচারের আলো কেড়ে নিয়েছে। বেহালা পূর্ব আসনটি যেমন। রাজ্য রাজনীতির বর্তমান অন্যতম বর্ণময় চরিত্র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের একদা খাস তালুকে এবার পুরনো দল তৃণমূল থেকে প্রার্থী তাঁরই স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়।যার সঙ্গে আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে প্রাক্তন মহানাগরিকের। এই কেন্দ্রে আপাতত মেগা ডুয়েলে মুখোমুখি তৃণমূলের প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় বনাম বিজেপির পায়েল সরকার।খবরে প্রকাশ প্রাক্তন স্ত্রীকে মহড়া নিতে এই আসন চেয়েছিলেন শোভন। কিন্তু বিজেপি তাঁকে প্রতিদ্বন্দিতার সুযোগ না দেওয়ায় গোঁসা করে দল ছেড়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে বেহালা পূর্ব আসন গোড়া থেকেই নানা পট পরিবর্তনের স্বাক্ষী। ১৯৭১ এ বেহালা পূর্ব ছিল কংগ্রেসের দখলে। এরপর বামেদের প্রভাব সেখানে বড় আকার নেয় । বেহালায় তখন দিকে দিকে লাল পতাকার প্রতাপ। এর বহু আগে বেহালা পূর্ব ও বেহালা পশ্চিম একক বেহালা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ছিল। এরপর ২০১০ সালে বাংলার পট পরিবর্তন হতে থাকে। ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। কলকতা জুড়ে তখন ঘাসফুলের দাপট। আর এবার ২০২১ এ বেহালা পূর্বে পদ্ম ফুটবে কিনা তার জবাব পাওয়া যাবে ২ রা মে।

কলকাতা পুরনিগমের একাধিক ওয়ার্ড বেহালা পূর্ব কেন্দ্রে থাকলেও , এই কেন্দ্রটি মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আওতায়। এই কেন্দ্রটির, নির্বাচন কমিশনের খাতায় নম্বর হল ১৫৩ । কলকাতা পুর নিগমের ১১৫ থেকে ১১৭ ও ১২০ থেকে ১২৪ নং ওয়ার্ডগ এবং ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা ব্লকের জোকা-১ ও জোকা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি নিয়ে এই বিধানসভা কেন্দ্রের পরিধি।

এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক দুই প্রার্থীকে। বেহালা পূর্ব থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ছাড়াও রত্না চট্টোপাধ্যায়ের একাধিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান দুলালচন্দ্র দাসের কন্যা। এছাড়াওপ্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল ও বিজেপির প্রাক্তন সদস্য শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন এবং তার পরবর্তীকালে সেই দাম্পত্যে ফাটলের ঘটনা এখন রাজনীতির জগতের বাইরেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই জায়গা থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের খাস তালুকে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের প্রার্থীপদ বিশেষ তাৎপর্যবাহী।
অন্যদিকে টেলিভিশন আর রুপোলি পর্দার কল্যাণে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া অভিনেত্রী পায়েল সরকার এবার ওই আসনে বিজেপির তুরুপের তাস। বাংলার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার বহু আগে মুম্বইয়ে একটি সিরিয়ালের হাত ধরে বেশ জনপ্রিয় হন। তারপর টলিউডে ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ থেকে ‘লে ছক্কা’, ‘ ক্রস কানেকশান’,’জানি দেখা হবে’ র মতো ছবিতে অভিনয় করে মন জিতে নিয়েছেন তিনি। সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েই রাতারাতি বিধানসভা ভোটের টিকিট পেয়েছেন তিনি । আর রাজনৈতিক ইনিংসের প্রথম লড়াইতেই তিনি বেহালা পূর্বে মুখোমুখি হচ্ছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়ের।রাজনৈতিক পরিবারের কন্যা ও ঘরণী হওয়া স্বত্তেও রাজনীতিতে যিনি নবাগতা। এই দুই মহিলা প্রার্থীর মেগা প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বাক্ষী হতে চলেছে বাংলা, যার ভিত্তি ভূমি হতে চলেছে বেহালা পূর্ব ।
, গত কয়েক বছর ধরে বেহালা পূর্বে দাপট ধরে রেখেছে তৃণমূল। তবে শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিক কারণেই এই এলাকার রাজনৈতিক ভারসাম্য টালমাটাল হয়ে ওঠে। হেভিওয়েট শোভন ছেড়ে যাওয়ার ফলে এলাকার মাটি ধরে রাখতে তাঁর স্ত্রী রত্নাকে মাঠে নামায় তৃণমূল। তবে রত্নার সক্রিয়তার থেকে বিজেপিতে শোভনের দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তা, বারবার দল ছাড়ার জল্পনা এবং সর্বশেষ তাঁর বিজেপি ত্যাগ শোভন অনুগামী অনেককেই ফের ঘাসফুল শিবিরে ফিরিয়ে এনেছে।শোভন চট্টোপাধ্যায় প্রার্থী না হওয়ায় নানা কারণেে স্বস্তি পেয়েছে তৃণমূল। ‘দাদা’ না থাকায় বেহালা পূর্বে জেতাটা তাদের কাছে অনেক সহজ হয়ে গেল বলে দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের।

হাঁফ ছেড়েছেন তৃণূল প্রার্থী রত্নাও। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রত্না চট্টোপাধ্যায় বলেছেন ‘শোভন চট্টোপাধ্যায় বা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কেউ প্রার্থী হলে আমাকে পাঁকে নামতে হত। কিন্তু রাজনীতিতে আনকোরা পায়েলকে দাঁড় করানোয় সেটা করতে হল না।’ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রত্না চট্টোপাধ্য়ায়ের দাম্পত্যের বিবাদের অন্যতম এই বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তা এখন কারোরই অজানা নয়। বিজেপি প্রার্থী পায়েল অবশ্য বিষয়টি ‘রত্না বনাম পায়েলের লড়াই’ হিসাবে দেখতে রাজি নন। তিনি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি বেহালা পূর্বের প্রার্থীপদ থেকে ভোট পর্ব নিয়ে খুশি, একই সঙ্গে উত্তেজিত এবং অবাক। পায়েলের মতে, দল তাঁর উপর ভরসা করেছে। তাঁর আশা বেহালার মানুষও তাঁর ওপর ভরসা করবেন।

News Desk

News Desk

প্রাসঙ্গিক বিষয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *