কোরক- বাংলার গর্বের সন্তান

কোরক- বাংলার গর্বের সন্তান

সমাপ্তি রায়ঃ

কোরক, জন্ম থেকেই ‘ডাউন’স সিনড্রোম’এ আক্রান্ত।শারীরিক অক্ষমতা তাঁর সারা জীবনের সঙ্গী।শিশুকালে তাঁর অভিব্যক্তি প্রকাশ করতেও নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হতো তাঁকে।তাঁকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন তাঁর পিতা মাতা।এক অসহায় বালককে দিয়েছেন মানসিক শক্তি নিজেদের কষ্ট লুকিয়ে রেখেও।

এই অবস্থায় তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ায় ‘নোবেল মিশন সংস্থা’।তাঁরা স্পেশাল শিক্ষা, ফিজিও থেরাপি ও স্পিচ থেরাপি দিয়ে শুরু করেন কোরকের চিকিৎসা।ধীরে ধীরে তাঁর প্রতিভা প্রকাশ পেতে থাকে।তখন তাঁকে কাবেরী পুততুন্ডের তত্ত্বাবধানে গৌড়িয় নৃত্য শিক্ষা দেওয়া শুরু হয়।এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।ভারত সরকারের সেন্টার ফর কালচারাল রিসোর্সেস এন্ড ট্রেইনিং থেকে সে বৃত্তি লাভ করে।

সে ভারতের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও বাংলাদেশে গিয়ে বিভিন্ন নাচের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।পুরস্কার জেতার পাশাপাশি জিতে নেয় প্রশংসা।২০১৪ সালে রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে ক্রিয়েটিভ চাইল্ড উইদ ডিসএবিলিটি সম্মানে ভূষিত করা হয়।২০২০ সালে সে জিতে নেয় প্রধানমন্ত্রী বাল শক্তি পুরস্কার।৪৮ জন অত্যন্ত প্রতিভাধর বাচ্চাকে পিছনে ফেলে ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতির হাতে এই পুরস্কারে সম্মানিত হয় কোরক।অংশ নেয় ৫১ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডেও।

এহেন শিশু, যে শুধুমাত্র ভারতবর্ষ নয়, সারা বিশ্ব কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে শারীরিক অক্ষমতা কখনই জীবনের এগিয়ে চলার পথে বাধা হয়ে থাকতে পারে না, তাঁকে সম্বর্ধনা জানানো হল সম্প্রতি।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত দাবাড়ু দিব্যেন্দু বড়ুয়া, নৃত্যশিল্পী অলকানন্দা রায় সহ নোবেল মিশনের তাঁর শিক্ষিকা ও শুভান্যুধায়ীরা।তাঁকে উত্তরীয়, মানপত্র, পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

News Desk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *